স্পেনের সাথে ম্যাচ ড্র করা সহজ কথা নয়

 

ইউরোপিয়ান জায়ান্ট এবং বর্তমান বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা দল স্পেনের কাছ থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়া বা ড্র করা যে কতটা কঠিন, তা আজ আরও একবার ফুটবল বিশ্ব হাড্ডাহাড্ডিভাবে টের পেল। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ 'এইচ'-এর প্রথম ম্যাচে নবাগত ও আন্ডারডগ দল কেপ ভার্দে (Cabo Verde) যেভাবে স্পেনের সঙ্গে প্রথমার্ধে লড়াই করে ০-০ ব্যবধানে ম্যাচ ধরে রেখেছিল, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।



​ফুটবল বিশ্বে একটি প্রচলিত কথা আছে—"স্পেনের সাথে ম্যাচ ড্র করা সহজ কথা নয়।" কেন স্পেনের কাছ থেকে ১টি পয়েন্ট কেড়ে নেওয়া বা ম্যাচ ড্র করা যেকোনো দলের জন্য হিমালয় জয়ের সমান, তা নিয়েই আজকের এই বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী ব্লগ পোস্ট।

​১. তিকি-তাকা ও বল পজেশনের শ্বাসরুদ্ধকর চাপ

​স্পেনের ফুটবলের মূল ভিত্তিই হলো বল পজেশন বা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। পেদ্রি, রদ্রি এবং ফ্যাবিয়ান রুইজদের নিয়ে গড়া স্প্যানিশ মিডফিল্ড যখন ছোট ছোট পাসে খেলা শুরু করে, তখন প্রতিপক্ষ দল মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। আপনি যদি বলই না পান, তবে আক্রমণ করবেন কীভাবে? ৯০ মিনিটের ম্যাচে ৭০% বা তার বেশি সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্রমাগত দৌড়ের ওপর রাখা স্পেনের সহজাত বৈশিষ্ট্য। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি সামলে ৯০ মিনিট গোলপোস্ট অক্ষত রেখে ম্যাচ ড্র করা যেকোনো ডিফেন্সের জন্যই এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা।

​২. হাই-প্রেসিং এবং মুহূর্তের মধ্যে বল কেড়ে নেওয়া

​স্পেন দলটি শুধু বল পায়ে রাখতেই ওস্তাদ নয়, বল হারালে তা দ্রুত ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত ভয়ানক। তারা প্রতিপক্ষের ডিবক্সের কাছাকাছি গিয়ে 'হাই-প্রেসিং' ফুটবল খেলে। এর ফলে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করার বা কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়ার কোনো সময় পায় না। এই সার্বক্ষণিক চাপের মুখে কোনো ভুল না করে ম্যাচ ড্র করা সত্যিই সাধারণ কোনো কথা নয়।

​৩. স্কোয়াডের গভীরতা ও সাইডবেঞ্চের শক্তি

​স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের একাদশের গভীরতা। আজকের ম্যাচেই যেমন দেখা গেছে, কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাঁর প্রধান দুই তারকা লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal) এবং নিকো উইলিয়ামসকে শুরুর একাদশে না রেখে সাইডবেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন। তাদের জায়গায় মাঠে নেমেছিলেন বার্সেলোনার ক্ষিপ্র ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস (Ferran Torres)। যখন একটি দলের মূল তারকারা বেঞ্চে বসে থাকে এবং ব্যাক-আপ খেলোয়াড়রাও বিশ্বমানের হয়, তখন সেই দলের বিরুদ্ধে ড্রয়ের পরিকল্পনা করাও কোচেদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়।

​৪. কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ: একটি জ্যান্ত উদাহরণ

​আজকের ম্যাচে কেপ ভার্দে (The Blue Sharks) দেখিয়েছে কীভাবে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে আটকে রাখা যায়। লম্বায় মাত্র ১৭০ সেন্টিমিটারের ফুটবলার কিংবা তরুণদের নিয়ে গড়া আফ্রিকার এই দলটি প্রথমার্ধে স্পেনের আক্রমণভাগের সামনে আক্ষরিক অর্থেই 'চীনের প্রাচীর' হয়ে দাঁড়িয়েছিল। রক্ষণভাগে রায়ান মেন্দেস ও রবার্তো লোপেসদের জমাট ডিফেন্স এবং সিডনি লোপেস ক্যাব্রালের কড়া ট্যাকলিংয়ের কারণেই প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ০-০ রাখা সম্ভব হয়েছিল। তবে এই রক্ষণ ধরে রাখতে গিয়ে প্রথম ৪৫ মিনিটেই তাদের হলুদ কার্ডের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা প্রমাণ করে স্পেনের আক্রমণ সামলানো কতটা চড়া মূল্যের।

​শেষ কথা: ড্র যেন জয়ের সমান

​আধুনিক ফুটবলে স্পেনের কৌশলী এবং গতিময় ফুটবলকে রুখে দিয়ে ম্যাচ ড্র করতে হলে কেবল ট্যাকটিক্স নয়, ভাগ্য এবং গোলরক্ষকের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের প্রয়োজন হয়। তাই ফুটবল বোদ্ধারা প্রায়ই বলেন, বড় মঞ্চে স্পেনের বিপক্ষে ১টি পয়েন্ট পাওয়া বা ম্যাচ ড্র করতে পারাটা যেকোনো মাঝারি বা ছোট দলের জন্য কোনো শিরোপা জেতার চেয়ে কম নয়!